যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) সর্বশেষ পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়েছে গত ডিসেম্বরে। এ সময় আমদানি শুল্কের প্রভাব আংশিকভাবে পণ্যমূল্য বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি সামনের মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কিছু সময়ের জন্য সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত মাসে দেশটিতে পিপিআই প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বেড়েছে। এতে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পরিষেবা খাত, বিশেষ করে বাণিজ্য-সংক্রান্ত পরিষেবা। পাশাপাশি হোটেল ও মোটেল কক্ষের ভাড়া এবং উড়োজাহাজ ভাড়ার দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে অপরিবর্তিত ছিল।
এর আগে গত বুধবার সুদহার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ সীমায় অপরিবর্তিত রাখে ফেড। এ বিষয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির অতিরিক্ত চাপের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আমদানি পণ্যে আরোপিত শুল্ক। তবে বছরের মধ্যবর্তী প্রান্তিকগুলোয় শুল্কজনিত মূল্যস্ফীতি চূড়ায় পৌঁছে ধীরে ধীরে কমতে পারে।’
হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্ল ওয়াইনবার্গ বলেন, ‘শ্রম দপ্তরের প্রতিবেদন প্রমাণ করে, শ্রমবাজারের ঝুঁকি থেকে সরে এসে আবার মূল্যস্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ফেড।’
শ্রম দপ্তরের অধীন ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) জানিয়েছে, উৎপাদন চেইনের সর্বশেষ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত চূড়ান্ত চাহিদা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে ডিসেম্বরে, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। নভেম্বরে সূচকটি বাড়ে দশমিক ২ শতাংশ। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া অর্থনীতিবিদরা ডিসেম্বরেও দশমিক ২ শতাংশ পিপিআই বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ১২ মাসে পিপিআই বেড়েছে ৩ শতাংশ, নভেম্বরের বৃদ্ধির হারও একই ছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর শুল্কের প্রভাব বড় আকারে পড়েনি। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ব্যাপক আমদানি শুল্কের একটি অংশ এখনো ব্যবসায়ীরাই বহন করছেন। এতে মূল্যস্ফীতিতে হঠাৎ বড় উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে না।
জেপি মরগানের অর্থনীতিবিদ মাইকেল হ্যানসন বলেন, ‘পিপিআই খুবই অস্থির এবং সংশোধনের ঝুঁকি থাকে। তবে শুল্কের কারণে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়েছে। আর তারা সে বাড়তি খরচের একাংশ পণ্যের বা পরিষেবার দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছে। লক্ষ্যমাত্রার ওপর মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য ও শুল্কের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আশা করছি বর্তমান নীতি কিছু সময়ের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে।’